কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিয়ের গাড়িতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে হিজড়া পরিচয়ে বেশ কিছু লোকজন। এদের উৎপাতে অতিষ্ঠ বিয়েতে যাওয়া যাত্রী ও সাধারণ মানুষেরা। প্রতিদিন দলবেঁধে এরা যাত্রীবাহী বাসে উঠে করছে চাঁদাবাজি। চাহিদামতো চাঁদা দিতে না পারলেই যাত্রীদের সাথে করছে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ। দিন দিন এদের উৎপাত বেড়েই চলছে। দেখার যেনো কেউ নেই।
বিয়ের যাত্রীরা তাদের চাহিদামতো চাঁদা দিতে না পারলে মারধর করার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। তাদের চাঁদাবাজি ও অশ্লীল আচরণে যানবাহনে বিব্রতাবস্থায় পড়ছে পরিবার সাথে নিয়ে চলাচলকারী মানুষজন।
১৫ই ডিসেম্বর রবিবার রাতে কিশোরগঞ্জ টু ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বরযাত্রীদের একটি গাড়ি আটক করে হিজড়া পরিচয়ে বেশকিছু লোকজন। এ সময় বরের গাড়িটি আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা দাবী করে তারা। চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রকাশ্যেই কাপড় চোপড় খুলে ফেলে এদের মধ্যে কয়েকজন।
বেশ কয়েকজন চালক এ প্রতিবেদককে জানান, হিজড়া পরিচয়ে লোাজনের উৎপাতে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড হয়ে কোনো বরযাত্রীর গাড়ি চাঁদা দেওয়া ছাড়া চলাচল করতে পারে না। চাহিদামাফিক টাকা না দিলে তারা গাড়ির সামনে এসে উলঙ্গ হয়ে যায়।
কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেশ কয়েকটি বাসায় ৩০ থেকে ৪০ জন ভাড়া থাকেন হিজড়া পরিচয়ে। এরা হিজড়া কি না এ নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মেয়েদের পোশাক পরিধান ও অঙ্গভঙ্গী করে চাঁদাবাজি করলেও জানা যায়, এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের স্ত্রী - সন্তানসহ পরিবার রয়েছে। এরা সত্যিকারের হিজড়া কি না এ বিষয়টি চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি করেন স্থানীয়রা।
বাসস্ট্যান্ডে চায়ের দোকান, পেট্রল পাম্প, বাস কাউন্টার ও নির্জন স্থানে রয়েছে এদের সরব উপস্থিতি। দলবেঁধে চলাফেরা করার কারনে ভয়ে ও লজ্জায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে পারে না সাধারণ মানুষজন।
লোকমুখে শুনা যায়, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে হিজড়া সাজিয়ে লোক এনে ভাড়া বাসায় রেখে দল সাজিয়ে চাঁদাবাজির ব্যবসা করছেন একটি শ্রেণি। এদের দিয়ে মোটা অংকের নিরব ধান্ধা করা হচ্ছে এমনটিও শুনা যাচ্ছে।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে এরা নবজাতকদের পরিবারের কাছেও চাঁদাবাজি করছে বলে জানা যায়।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, এদের মধ্যে জন্মগত হিজড়া দু'চারজন হবে। অধিকাংশই হিজড়া সেজে ধান্ধামী করছে।
এ ছাড়া আরো জানা যায়, ভৈরব টু কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রতিটি স্ট্যান্ডেই হিজড়া পরিচয়ে চলছে নিরব চাঁদাবাজি ও অশ্লীলতা। ভৈরব, আগরপুর, পিরিজপুর, কটিয়াদী, পাকুন্দিয়ার পুলেরঘাট ও বিন্নাটি কিশোরগঞ্জ বড়পুল পর্যন্ত প্রতিটি যাত্রীবাহী বাসেই হিজড়া পরিচয়ে লোকজনের চাঁদাবাজির দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।
সঠিক হিজড়া চিহ্নিত করা ও ধান্ধাবাজদের চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয়রা।